বুধবার, ২২ মার্চ, ২০১৭

Filled Under:

চিকিত্সা ক্ষেত্রে মুসলমানদের অবদান।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলমান উনাদের শুধুমাত্র অবদান নয়, উনারাই সৃষ্টিকরক/উদ্ভাবক-০৩ বোখারা নগরীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন ইবনে সীনা এবং ১০ বছর বয়সেই কুরআন শরীফ ও সমকালীনঅন্যান্য বিজ্ঞানে বুৎপত্তি অর্জন করেন । আর মাত্র ১৭ বছর বয়সে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আগ্রহী হয়ে উঠেন। এ বিষয়ে উনার অনুসন্ধিৎসা এত প্রবল ছিল যে, পরের বছর হতেই চিকিৎসক হিসেবে উনার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ২১ বছর বয়স হতে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রন্থ রচনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর রচিত ১৬টি মৌলিক গ্রন্থের ১৫টিতে তিনি বিভিন্ন রোগের কারন ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। হৃদ্রোগের কারন হিসেবে তিনিই প্রথম মানুষের মানসিক অবস্থাকে(রাগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি) দায়ী করেন। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় তিনি মানসিক প্রশান্তির সাথে সাথে ঔষধ হিসেবে বিভিন্ন লতা-গুল্ম ও অন্যান্য বস্তুর বিবরণ দিয়েছেন। এছাড়া, আজকের মনো- চিকিৎসা (psyco-therapy) তাঁর হাত দিয়েই যাত্রা শুরু করে। কিন্তু, যে একটি গ্রন্থ উনাকে অমর করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকাৎসাবিদ হিসেবে, সেটির নাম ‘কানুন ফি-তিব্ব’।  
মানবসভ্যতায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এর চেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ এখনও পর্যন্ত আর দ্বিতীয়টি নেই। ৫ খন্ডে এবং ৮০০ পরিচ্ছেদে সমাপ্ত এই চিকিৎসা বিশ্বকোষে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতকে যেন একসাথে বেঁধে ফেলেছেন। প্রথমখন্ডে রয়েছে শরীরতত্ত্ব(Physiology) ও স্বাস্থ্যতত্ত্বের(Hygiene) মৌলিক আলোচনা। দ্বিতীয় খন্ডে ৭৫০ টি গুল্ম, পানীজ ও খনিজ ঔষধের বর্ণনা। এজন্য তিনি গ্রীক, রোমান, চীনা এবং ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির সার নির্যাস সংগ্রহ করেন। তৃতীয় খন্ডে মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একাধিক রোগ এবং সেগুলোর উপসর্গ (Symptom), নির্ণয় (Diagnosis), পূর্বাভাস (prognosis) এবং কারণতত্ত্ব (Etilogy) নিয়ে তিনি বিশদ আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তিনি মাথা হতে শুরু করে ধীরে ধীরে চোখ, কান, নাক, মুখ, দাঁত- এভাবে নিচের দিকে নেমে এসেছেন। চতুর্থ খণ্ডে বিশেষকিছু রোগ যেমন- জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, ভয়, বেদনা, প্রদাহ, পচন, বসন্ত, যক্ষ্মা, হাড়ের ভাঙ্গন বা স্থানচ্যুতি, বিষক্রিয়া, ফোঁড়া, ঘা, চুল-নখ-চামড়া বিভিন্ন রোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। সর্বশেষ খন্ডে অন্তর্ভূক্ত করেছেন বিভিন্ন রোগের ব্যবস্থাপত্র, বড়ি, পাউডার ও সিরাপসহ নানান প্রকারের ঔষধসামগ্রী। সঙ্গতকারনেই, এ গ্রন্থটি বিপুলভাবে সমাদৃত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। সমগ্র এশিয়া এবং ইউরোপে এ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর উপরে কোন কথা নাই। ইউরোপে এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইবেল (Bible of Medicine) নামে সমাধিক পরিচিত। এতে উল্লেখিত অনেকগুলো ঔষধ আজো হুবহু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন রোগের কারন, উপসর্গ এবং ব্যবস্থাপত্র আজো অপরিবর্তিত রয়েছে। এজন্য তাঁকে একবাক্যে সবাই চিকিৎকদের  চিকিৎসক(Doctor of doctors) বলে অভিহিত করেন। চক্ষুচিকিৎসায়ও মুসলমানদের মৌলিক আবিষ্কাররয়েছে।  আবুল কাসিম আম্মার ইবন্ আলী আল- মাওসুলী চোখের ছানি অপারেশনে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। জর্জসার্টনও উনাকে জগতের সর্বপ্রথম মুসলিম চক্ষুচিকিৎসক (The most original of Muslim oculists) বলে অকপটে স্বীকার করেছে। আলি ইবন্ ঈসা (৯৪০-১০১০) ছিলেন এ ব্যাপারে সকলের উপরে। উনার ‘তাজকিরাতুল কাহ্হালিন’ চক্ষুচিকিৎসায় সবচেয়ে দূর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ যাতে চোখের ১৩০টি রোগ এবং ১৪৩টি ঔষধের বর্ণনা জায়গা পেয়েছে। তিনিই প্রথম চোখের রোগের সাথে পেট ও মস্তিষ্কের রোগের সম্পর্কিত হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ইবন্ হাইসামও (৯৬৫-১০৩৯)
এক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। চোখের ব্যবচ্ছেদকরণের(Anatomy) মাধ্যমে তিনি এর বিভিন্ন অংশ যেমন- রেটিনা, কর্ণিয়া, আইরিস্ ইত্যাদি আলাদা করে চিহ্নিত করে দর্শনে(View) এদের কাজের বর্ণনা দেন। আরেকজনের এ বিষয়ে বেশ দক্ষতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি হলেন আবু হাসান আলী ইবন্ আবিল ইবন্ নাফিস । চক্ষুরোগ এবং ঔষধের উপরে তাঁর দুইটি মৌলিক গ্রন্থ রয়েছে। কিন্তু, যে কাজেরজন্য তিনি অমর তা হচ্ছে, মানবদেহের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়ার আবিষ্কার। এক্ষেত্রে তিনি ইবন্ সীনার মতকেও উপেক্ষা করেন এবং উনার আবিষ্কৃত মতবাদটিই আধুনিক যুগে প্রতিষ্ঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলমানদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে কয়েকটি পরিবারের অবদান সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ক) সাবিত ও সিনান পরিবার। তাদের মধ্যে সাবিত ইবন ক্বুরা(৮৩৬-৯০১) এবং উনার পুত্র সিনান ইবন্ সাবিত ও পৌত্র ইবরাহিম ইবন সাবিত (৯০৮-৯৪৬) সবচেয়ে বিখ্যাত। খ) জুহর পরিবার। যাঁরা প্রায় তিন শতাব্দী এবং  ছয় পুরুষ ধরে স্পেনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রাখেন এবং আবদুল মা’লিক ইবন্ জুহর সবচেয়ে বিখ্যাত। উনার পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র সকলেই চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। চতুর্দশ শতকে মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানেও আধিপাত্য কমে যেতে থাকে। চুরি হয়ে যায় অনেক খিউরী। তার মাঝেও ফিলিস্তিনী আবু সাঈদ আল আফিক, স্পেনেরমুহম্মদ ইবন্ মুহম্মদ, তুর্কী আলী হাজালী, হাজী পাশার মত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা টিমটিমে হয়ে জ্বলতে থাকেন।
(সংগৃহীত)

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Copyright @ 2013 Just Islam.