(1) এক বাদশাহাজাদীর কাহিনী
হযরত শাহ ইবনে শুজা কামরানী (রহ:) ছিলেন এক বিশাল রাজ্যের বাদশাহ। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় বাদশাহি ত্যাগ করে ফকিরের বেশ ধারন করেন। তার ছিল এক পরমা সুন্দরী এবং পরহেজগার কন্যা। কন্যা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বহু রাজা বাদশাহ তার বিয়ের পরগাম পাঠাতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি ঘৃনাভাবে সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। একদিন এক দরিদ্র যুবকের সাথে তার সাক্ষাৎ হল। যুবকের পরহেজগারী তাকে মুগ্ধ করলো। তিনি ঐ যুবকের কাছে তার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। যুবক রাজি হলে তিনি তার সাথে কন্যার বিয়ে পড়িয়ে দিলেন। যুবক নববধুকে নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করলেন।
হযরত শুজা (রহঃ) এর কন্যা স্বামীর বাড়ী গিয়ে দেখলেন, এককনে এক টুকরো শুকনো রুটি রাখা আছে। স্বামীকে ঐ রুটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। স্বামী জানালেন- সারাদিন রোজা আছি। তাই ইফতার করার নিয়তে ঐ রুটির টুকরোটি রেখেছি। স্বামীর উত্তর শুনে মনে হল বাদশাহাজাদী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি বললেন- আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলুন। যুবক বললেন- আমি পূর্বেই ভেবেছিলাম যে, বাদশাহাজাদি আমার বাড়ী থাকতে পারবে না। এখন দেখছি আমার ধারনা ঠিক। বাদশাহাজাদী বললেন "আপনি ভুল বেঝছেন। আব্বা বলেছিলেন তোমার বিয়ে এক দরবেশ যুবকের সাথে দিচ্ছি। এটা শুনে আমি খুব খুশী হয়েছিলেম, কিন্তু এখন দেখছি আমার স্বামী দরবেশ নন। যদি দরবেশই হবেন, তবে কেন ঘরে রুটি জমা রাখবেন?
যুবক তৎক্ষণাৎ রুটিটি দান করে দিলেন। বাদশাহাজাদীও সন্তুষ্ট চিত্তে ঐ যুবকের সাথে ঘর করতে লাগলেন।
Book Name: তালিমুন নিসা। Page No: 178
(2) বিস্বয়কর ধোর্য্য
হযরত উম্মে সুলাইম (রাঃ) ছিলেন একজন সাহাবীয়া। তার স্বামীর নাম হযরত তালহা (রাঃ) তিনি অত্যান্ত ধৈর্য্যশীলা ও কৃতজ্ঞ মহিলা ছিলেন। তার প্রাণ প্রিয় ছেলে আবু উমাইর (রাঃ) একবার মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ঘটনাক্রমে তার স্বামী আবু তালহা বাড়ীতে ফেরার পূর্বেই ঐ ছেলে আবু উমাইয়ের মৃত্যু ঘটে। হযরত উম্মে সুলাইম (রাঃ) ধৈর্য্য ধারন করে নিজেই ছেলের গোসল, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করে ফেললেন এবং গৃহবাসীদের বলে দিলেন- আবু তালহা বিড়িতে ফিরলে কেউ যেন আবু তালহাকে উমায়ের মৃত্যুর খবর না দেয়। কেননা, সাথে সাথে মৃত্যু সংবাদ দিলে হয়ত পানাহার ত্যাগ করে তিনি অস্থির হয়ে পড়বেন। রাতে আবু তালহা বাড়ীতে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন ' আবু উমাইর কেমন আছে? বড়ই শান্তিতে আছেন ' জবাব দিলেন উম্মে সুলাইম (রাঃ)।
অঅতঃপর রাতের আহারান্তে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়লেন। মিলনও হল। সমস্ত কাজে সমাধা হয়ে গেলে হযরত উম্মে সুলাইম (রাঃ) স্বামীকে লক্ষ্য করে বললেন "আচ্ছা স্বামী আমার! বলুনতো যদি কোন ব্যক্তি কোন গৃহবাসীকে একটা জিনিস নিছক ধার হিসেবে প্রদান করে অতঃপর সেই জিনিসটা ফেরত চায়, তাহলে সেটা ফেরত দেয়া উচিত হবে, নাকি রেখে দেয়ার চেষ্টা করে ভাল হবে?
-নানা অবশ্যই সেটা ফেরত দিতে হবে। আবু তালহা জবাবে বললেন।
-তাহলে আবু উমাইর সম্পর্কে আপনাকে ধৈর্য্য ধারন করতে হবে। আল্লাহর জিনিস আল্লাহ দিয়ে আরার তিনিই ফেরত নিয়েছেন। অত্যন্ত প্রসন্ন মনে স্থিরতার সাথে কথাগুলো বললেন উম্মে সুলাইম (রাঃ)
কিন্তু আবু তালহা (রাঃ) এতে খুবই অসন্তোষ প্রকাশ করলেন- পূর্বে তাকে কেন অবহিত করা হলোনা? প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠেই তিনি হুযুরেপাক (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হলেন এবং তাকে অবহিত করলেন এ ঘটনা সম্পর্কে। হুযুরপাক (সাঃ) তাকে বললেন "আল্লাহপাক তোমাদেরকে এ রাতে এক বিশেষ বরকত প্রদান করেছেন।"
এর কিছুদিন পরের কথা। আবু উমাইয়ের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তাদেরকে সত্যিই একটি পুত্র দান করেন, যার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। হুজুরেপাক (সাঃ) এর দোয়ায় আল্লাহর ঐরষে ৭ জন ছেলে হয়েছিল এবং সকলেই ছিলেন হাফেজ কুরআন ও বড় আলেম।
Book Name: তালিমুন নিসা। Page No: 179
(3) ইসলামের জন্য সীমাহীন ত্যাগ
আরবের কাফিরদের মধ্যে হযরত খোনসা (রাঃ) মহিলা কবি হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তিনি তার চার পুত্রসহ মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন। হযরত উমার (রাঃ) এর শাসনামলে কাদেসিয়ার যুদ্ধে তিনি তার চার পুত্রসহ অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের একদিন পূর্বে তিনি তার পুত্রগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে এই বলে উপদেশ দিলেনঃ
"হে আমার কলিজার টুকরোবৃন্দ! তোমরা আনন্দচিত্তে মুসলমান হয়েছো ও হিজরত করেছ। ঐ সত্ত্বার শপথ, যে সত্ত্বা ব্যাতিতি অন্য কোন উপাসক নেই। যেভাবে তোমরা এক মায়ের গর্ভে জন্মলাভ করেছ, ঐভাবে তোমরা এক মায়ের সন্তান। তোমাদের পিতা ভিন্ন অন্য কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। তোমাদের বংশ গৌরবের উপরও আমি কোন কলঙ্ক করিনি। তোমাদের জানা আছে, আল্লাহর পথে জিহাদ করা কত সওয়াব। এই দুনিয়া অস্থায়ী এবং পরকালীন জীবন অপেক্ষা অনেক উত্তম। তোমাদের সকলের একদিন মৃত্যু-স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন